Mridha Shihab Mahmud is a journalist of www.newshour.online.
Mridha is the chief respondent person in Mymensingh Film & Photography Society (MFPS) and Studio MFPS.
অটো বা রিকাশা থেকে আড় চোখে বা ফ্যাল ফ্যাল করে চলচিত্রের পোস্টার এর এর দিকে তাকিয়ে থাকার মজা অনেক। কখনো তার নান্দনিকতার সৌন্দর্য আমাদেরকে আনন্দ দেয় কখনো তার হাস্যকর উপস্থাপন দেয় বিনোদন (আটার বস্তা গরম মশলা নাইকারা নাই টাইপ ড্রেস পইরা মাঝে মাঝে এখনো আমাদের পৈচাশিক অনুভুতিও দেয়!!!)।
রাস্তার পাশের দেয়াল গুলো জুড়ে ভুইত্তামারা সাইজের বিশাল বিশাল সব পোস্টার আজকাল ওয়াল পেপার এর কাজ করে দিচ্ছে, যার বেশীরভাগ রাজনীতিগত হলেও সর্বাধিক ভুইত্তামারা পোস্টার গুলো হলো চলোচিত্রের পোস্টার।
"পুড়ে যায় মন" টাইপ নামের একটা মুভি পোস্টার দেখলাম যেখানে বিশাল পোস্টারের দুই তৃতীয় অংশ জুড়ে নাইকা পরিমনি চার ইঞ্চি ব্যাসার্ধের মিনি হাফ প্যান্ট পিন্দা মটরবাইক এর উপর বইসা ললিপপ চুষে আর আরেক হাতে অন্য একটা ললিপপ ধইরা আছে (পুরাই গ্যাং ব্যাং ব্যাপার সেপার)। পুড়ে যায় মন নামের সাথে এই ছবির ব্যাবহারের সামান্য কারন বুঝে উঠতে পারলাম না। নাম যদি হত "গিভ মি মাই ললিপপ", তাহলে ব্যাপারটা যেতো বেশী। আর এক পোস্টারে দেখলাম পরি আপার চেহারার থেকে কোমর ও বগল বেশী দেখা যায়, আর বিগ ব্রাদার নামের এক মুভির পোস্টারে দেখলাম মাহিয়া মাহি গোলাপি এক খন্ড নাইটি পিন্দা টাইনা ধইরা শুইয়া আছে।
মাঝে যখন চলচিত্রের কালো অধ্যায় চলছিলো তখন আমরা এ সব টাইপ সস্তা রস সমৃদ্ধ পোস্টার অবাধে দেখতাম, কিন্তু পাত্তা দিতাম না। কিন্তু আবার এই চলচিত্রের দিন বদলের সময়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নির্মাতারাও আবার যখন পুরানো ফর্মুলায় চলে যেতে চায় তখন ভালো লাগে না। অন্তত মুভির জন্য একটা রুচি সম্মত পোস্টার তো তারা বানাতেই পারে। যা আমাদের অনেক নির্মাতা করে দেখিয়েছেনও। তবে বাকিরা অয়ারবেনা কেনো!!!
যে কোন চলচিত্র শিল্পের জন্য চলচিত্রের পোস্টার অত্যান্ত দরকারি অস্ত্র। এর শিল্প মান পারে একটি কম বাজেটের কম প্রচারনা প্রাপ্ত চলচিত্রকে সকলের সামনে আকর্শনীয় করে তুলতে। আমাদের দেশের সত্তুরের বা আশির দশকের চলচিত্র গুলোর পোস্টারের শিল্পমান ছিলো অনেক উচ্চমানের। বর্তমানে কিছু সংখ্যক নির্মাতা হয়তোবা চেষ্টা চালিয়েছে কিন্তু তার মাঝে অনেক ক্ষেত্রেই কপি পেস্টের প্রবনতার দেখা মিলে। তবু যাই হোক, চাই আমাদের চলচিত্র ছড়িয়ে পরুক আরো ব্যাপকতা নিয়ে। কারন আমাদের নতুন নির্মাতা মুখ গুলোর চোখে এক টুকরা আগুনের দেখা মিলছে দিনকে দিন। তাতেই নাহয় পুড়ে যায় চলচিত্র নিয়ে আমাদের মনের হতাশা গুলো।
শিক্ষা নগরী ময়মনসিংহ প্রসিদ্ধ তার শিল্প ও সংস্কৃতি
চর্চার জন্য। নানা বিষয়ক শিল্প চর্চার ক্ষেত্রে স্বর্নাক্ষরে নাম লিখে
যাওয়া অনেক গুনী ব্যক্তির পদচারণায় মুখরিত হয়ছে আমাদের এই প্রিয় শহর
ময়মনসিংহ। উল্লেক্ষ্য যে, ময়মনসিংহের সাথে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের স্থিরচিত্র
জগতের স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব “নায়েব উদ্দীন আহমেদ” এর মত নাম। যার তোলা
মুক্তিযুদ্ধ সময়ের আলোকচিত্র কাপিয়ে দিয়েছিল সারা বিশ্বের বিবেককে। এছাড়াও
আমাদের এই শহরের বাতাসে মিশে আছে প্রখ্যাত সাহিত্যিক, নাট্যকার ও চলচিত্র
নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদ। যার নির্মিত নাটক ও চলচিত্র বদলে দিয়েছে আমাদের
দেশের মিডিয়ার রূপ রেখা।
কিন্তু দুঃখের ব্যাপার এই যে , একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এই শহরে
আলোকচিত্র ও চলচিত্র নিয়ে উল্ল্যেখ করার মত কার্জক্রম পরিচালিত হয়েছে খুব
নগন্য। এই পর্যায়ে ২০১২ সালের ৩১ আগস্ট থেকে Mymensingh Film & Photography Society প্রাথমিক পর্যায়ে অনলাইন
কেন্দ্রিক কাজ শুরু করে যা পর্যায়ক্রমে মাঠ পর্যায়েও নিয়ে যেতে সক্ষম হয়
এবং এখনো নানা পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আমাদের পাশে থেকে
সব সময় সাহস দিয়ে এসেছেন জনাব ইকরামুল হক টিটু,জনাব মুস্তাকীম বিল্লাহ
ফারুকী, জনাব আ. ন. ম. ফয়জুল হক, জনাব ডাঃ আবুল মনসুর, জনাব অরুণাভ দত্ত,
জনাব সংকর শাহা, জনাব আশরাফুল হক মানিক, জনাব হাসান মাসুদ এর মত গন্যমান্য
ব্যক্তিরা। এছারাও ময়মনসিংহ পৌরসভা ও ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন এর মত
প্রতিষ্ঠানের ছত্রছায়া ও সহায়তায় এই তারুণ্য কেন্দ্রিক সংস্থাটি নানা
কার্যক্রম সফলতার সাথে সম্পূর্ণ করতে পেরেছে।
লক্ষ্যঃ Mymensingh Film & Photography Society এর লক্ষ ময়মনসিংহের তরুণদের সৃষ্টীশীল প্রতিভাকে কাজে
লাগিয়ে ময়মনসিংহের স্থিরচিত্র ও চলচিত্র শিল্পকে বিকশিত করার মাধ্যমে
বিশ্বদরবারে পৌছে দেওয়ার একটি প্রয়াস।
সম্পন্নকার্যক্রম সমূহঃ Mymensingh Film & Photography Society কর্তৃক সম্পাদিত কার্যক্রম সমূহ উল্ল্যেখ করা হলো।
* স্থির চিত্র প্রদর্শনীঃ -
১। রিলিজ দ্যা সাটারঃ ব্রক্ষশৈলী ময়মনসিংহের সহায়তায় ময়মনসিংহ ফিল্ম
অ্যান্ড ফটোগ্রাফি সোসাইটি #MFPS ২০১৩ সালের ১৭ এপ্রিল – ২০ এপ্রিল আয়োজিত
হয় ময়মনসিংহ ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি সোসাইটি এর প্রথম আলোকচিত্র
প্রদর্শনী “রিলিজ দ্যা সাটার”। যা ছিল ,ময়মনসিংহে আয়োজিত অন্যতম সফল ও
পরিপূর্ন আলোকচিত্র প্রদর্শনী।
২। ছবি উৎসবঃ পহেলা ফাল্গুনকে কেন্দ্র করে ১৩-১৫ ফেব্রুয়ারী ময়মনসিংহ
পৌরসভার সহায়তায় ময়মনসিংহ ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি সোসাইটি তাদের ২য়
আলোকচিত্র প্রদর্শণী আয়োজন করে জয়নুল আবেদীন পার্কের বৈশাখী মঞ্চে। যা ছবি
তুলে উদ্ভদন করেন ময়মনসিংহ পৌরসভার সুযোগ্য মেয়র জনাব ইকরামুল হক টিটু। এই
প্রদর্শনীও তার দর্শক প্রিয়তার যাত্রা ধরে রাখে।
৩। শারদীয় ফটো এক্সিবিশনঃ ময়মনসিংহ ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি সোসাইটির
উদ্দ্যোগে ময়মনসিংহের ইতিহাসে প্রথম শারদীয় উৎসবের রঙকে ফ্রেমে বন্দি করে
দূর্গাবাড়ী মন্দির প্রাঙ্গনে ২ – ৩ অক্টোবর, ২০১৪ বসেছিল শারদীয় ফটো
এক্সিবিশন।
৪। “শান্তি ও পরিবেশ” ফটো প্রদর্শনীঃ এমসিসি বাংলাদেশ, মাটি ও শান্তি
মিত্র আয়োজিত হয় শান্তি ও ন্যায্যতা উৎসব। উল্ল্যেখিত সংস্থা গুলোর সাথে
একত্রিত হয়ে ময়মনসিংহ ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি সোসাইটি আয়োজন করেছে “শান্তি
ও পরিবেশ” শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী। যা আয়োজিত হয় ৬ – ৭ নভেম্বর,
২০১৪।
৫। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনীঃ ২০১৪
এর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ময়মনসিংহ উপজেলা প্রশাসন ও ময়মনসিংহ ফিল্ম
অ্যান্ড ফটোগ্রাফি সোসাইটি আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত ও
পুরুষ্কৃত হয় স্কুল-কলেজ সহ প্রায় ২৪ টি ছবি।
৬। রিলিজ দ্যা সাটার ১/২ঃ জয়নুল আবেদীন সংগ্রহশালার অডিটরিয়ামে নিকনের
সহযোগীতায় ময়মনসিংহ ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি সোসাইটির উদ্দ্যোগে ২০১৫ এর
৩-৭ জুন আয়োজিত হয়েছে রিলিজ দ্যা সাটার ১/২। ৫৪ জন ফটোগ্রাফারের ৫৪ টি ছবি
স্থান পায় প্রদর্শনীতে।
** আলোকচিত্র কর্মশালাঃ ময়মনসিংহ ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি সোসাইটি নতুন ফটোগ্রাফারদের শিক্ষার সহায়তার জন্য একাধিক কর্মশালা ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।
** মিডিয়া সহায়তাঃ বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে নির্মিত
ও ময়মনসিংহে চিত্রায়িত “মেঘমল্লার” এর ন্যায় সিনেমায় আমাদের তরফ থেকে
প্রয়জনীয় সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এছারাও কিছু ময়মনসিংহে চিত্রায়িত নাটক ও
টেলিফিল্ম এ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
** টেকনিক্যাল সহায়তাঃ ময়মনসিংহের নতুন আলোকচিত্রি ও নির্মাতাদেরকে যথা সম্ভব কারিগরি সহায়তা প্রদান করে আসছে ময়মনসিংহ ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি সোসাইটি।
** ফোটোওয়াকঃ তরুন আলোকচিত্র শিল্পিদের নিয়ে একাধিক
ফটোওয়াক আয়োজন করেছে ময়মনসিংহ ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি সোসাইটি। উক্ত
ফটোওয়াক থেকে নির্বাচিত সেরা ফটোকে পুরুষ্কৃত করা হয়েছে।
** ফটো কন্টেষ্টঃ একাধিক ফটো কন্টেষ্ট আয়োজনের মাধ্যমে নতুন আলোকচিত্রশিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরনা সৃষ্টি করেছে।
** অন লাইন সাপোর্টঃ স্থির চিত্র ও চলচিত্র বিষয়ে আগ্রহীদের সব সময় সহায়তা দেওয়ার জন্য রয়েছে আমাদের নানা সোশাল মিডিয়ার পেজ ও ওয়েব সাইট ( www.mymensinghfps.com )। যেখানে আগ্রহীরা জিজ্ঞাসা করতে পারে তাদের নানা প্রশ্ন।
ভবিষ্যত পরিকল্পনাঃ আমাদের পরিকল্পনাধীন প্রকল্প গুলোর মাঝে কিছু নিচে ঊল্ল্যেখিত হল। ১। স্বল্প দৈর্ঘ চলচিত্র ও ডকুমেন্টারি ফেস্টিভালঃ
আমাদের শহরের সৃষ্টিশীল তরুন ও দেশের অন্য প্রান্তের সৃষ্টিশীল তরুনদের
নির্মিত স্বল্প দৈর্ঘের চলচিত্র ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন ও এর নিমিত্তে
স্বল্প দৈর্ঘ চলচিত্র ফেস্টিভালের আয়োজন করা। ২। আলোকচিত্র প্রদর্শনীঃ আরো বড় মাপের আলোকচিত্র
প্রদর্শনীর আয়োজনের মাধ্যমে এ শহকে সারা দেশ তথা সারা বিশ্বের কাছে তুলে
ধরা। এছাড়া প্রদর্শণীর ধারাবাহিকতা বজায় রাখে নতুন ফটোগ্রাফারদের আরো
উদ্ভুদ্ধ করা। ৩। চলচিত্র প্রদর্শনীঃ ভালো মানের চলচিত্র প্রদর্শণী আয়োজনের মাধ্যমে দেশের উল্ল্যেখযোগ্য ফিল্ম তীর্থ গড়ে তোলা ময়মনসিংহে। ৪। স্থায়ী গ্যালারীঃ আমারা স্বপ্ন দেখি ময়মনসিংহে
অন্যান্য উন্নত ও সভ্য শহরের মত একটি বিশ্বমানের স্থায়ী গ্যালারী
প্রতিষ্টিত হবে। যাতে নিয়মিত হবে মান সম্পূর্ন ও শিল্পগুণ সমৃদ্ধ
প্রদর্শনী। ৪ ভ্রাম্যমান চলচিত্র ও স্থিরচিত্র প্রদর্শনীঃ
ভ্রাম্যমান প্রদর্শনীর মাধ্যমে চলচিত্র ও স্থির চিত্রকে সবখানে পৌছে দেওয়ার
প্রয়াশ রয়েছে ময়মনসিংহ ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি সোসাইটির। বিশেষত
ময়মনসিংহের স্কুল কলেজ গুলোতে পৌছে দিতে চায় এই নবযাত্রার মিছিল। ৫। প্রশাসন ও শহরের কজে সহায়তা করাঃ প্রশাসনের প্রয়োজনে আমাদের দক্ষ আলোকচিত্রি ও নির্মাতাদের সহায়তায় প্রশাসনিক শিল্প সম্পৃক্ত কাজে অংশগ্রহন। সম্প্রিতিক সময়ে আমারা আমাদের সাধারন সদস্য পদ ওপেন করেছি ও প্রথম পর্যায়ে ২০ জন সদস্য নতুন যোগ হয়েছে আমাদের কার্য নির্বাহী গ্রুপের সাথে। ময়মনসিংহ ফিল্ম অ্যান্ড
ফটোগ্রাফি সোসাইটি নামের ক্রমশ বর্ধমান সৃষ্টিশীল বৃক্ষটির দরকার সকলের
সহায়তা ও সুনজর। আমরা সকলে একসাথে থেকে ছড়িয়ে দিবো আমাদের দৃষ্টিসীমা।